সকালে ঘুম থেকে উঠে বালিশে একগোছা চুল পড়ে থাকতে দেখলে বুকটা ধক করে ওঠে না, এমন মানুষ খুব কমই আছে। গোসলের পর ড্রেনের মুখে জমে থাকা চুল, চিরুনিতে আটকে থাকা চুলের গোছা কিংবা সিঁথির পাশে ধীরে ধীরে ফাঁকা হয়ে আসা জায়গা, এসব দৃশ্য অনেকেরই রাতের ঘুম কেড়ে নেয়। আমাদের কাছে প্রতিদিন এমন অনেকের প্রশ্ন আসে, “চুলগুলো এভাবে উঠে গেলে কি টাক পড়ে যাবে?” প্রথমেই বলে রাখি, দুশ্চিন্তা করার আগে কারণটা বোঝা জরুরি। কারণ ঠিকমতো চিহ্নিত করতে পারলে চুল পড়া বন্ধ ও নতুন চুল গজানোর উপায় খুঁজে পাওয়া অনেক সহজ হয়ে যায়। এই লেখায় আমরা মেয়ে ও ছেলে উভয়ের জন্য সহজ ভাষায় পুরো বিষয়টি আলোচনা করব।

চুল পড়া বন্ধ ও নতুন চুল গজানোর উপায়
একজন সুস্থ মানুষের মাথায় গড়ে প্রায় এক লক্ষ চুল থাকে, আর প্রতিদিন পঞ্চাশ থেকে একশটি চুল ঝরে পড়া একদমই স্বাভাবিক। কারণ চুলের একটি নিজস্ব জীবনচক্র আছে। পুরোনো চুল ঝরে যায়, সেই জায়গায় নতুন চুল জন্ম নেয়। সমস্যা শুরু হয় তখন, যখন ঝরে পড়ার পরিমাণ বেড়ে যায় অথচ নতুন চুল সময়মতো গজায় না। তখন চুল ক্রমশ পাতলা হতে থাকে।
চুল পড়ার সাধারণ কারণগুলো
চুল পড়ার পেছনে একটিমাত্র কারণ খুব কমই থাকে। বংশগত প্রবণতা সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি। বাবা-মা বা দাদা-নানার চুল পাতলা হয়ে থাকলে সন্তানের ক্ষেত্রেও সেই সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এর পাশাপাশি অতিরিক্ত মানসিক চাপ, দীর্ঘদিনের অনিদ্রা, হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া, জ্বর বা বড় অসুখের পর শরীরের ধকল, এসবও চুল পড়ার হার বাড়িয়ে দেয়। অনেক সময় থাইরয়েডের সমস্যা, রক্তস্বল্পতা বা শরীরে ভিটামিন ডি-র ঘাটতির কারণেও চুল দুর্বল হয়ে ঝরতে থাকে। আমাদের দেশে অনেকেই বিষয়টি আগে ধরতে পারেন না, কারণ সবাই ভাবেন এটি শুধু শ্যাম্পু বা তেলের সমস্যা।
বাইরের দিকের কারণও কম নয়। ঢাকার মতো ধুলো-দূষণের শহরে প্রতিদিন বাইরে চলাফেরা করলে মাথার ত্বকে ময়লা জমে, ঘাম আর ধুলো মিলে খুশকি ও চুলকানি তৈরি করে। কড়া কেমিক্যালযুক্ত শ্যাম্পু, ঘন ঘন হেয়ার ডাই বা স্ট্রেইটনিং, ভেজা চুল শক্ত করে বেঁধে রাখা কিংবা হেলমেট দীর্ঘক্ষণ পরে থাকার অভ্যাসও চুলের গোড়া আলগা করে দেয়।
কারণ জানাই সমাধানের প্রথম ধাপ
অনেকে বিজ্ঞাপন দেখে একের পর এক তেল, সিরাম বা শ্যাম্পু বদলাতে থাকেন, অথচ মূল কারণ শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকতে পারে। তাই চুল পড়া বন্ধ ও নতুন চুল গজানোর উপায় জানতে চাইলে প্রথমে নিজের জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যের দিকে একটু খেয়াল করুন। গত কয়েক মাসে কি কোনো বড় অসুখ হয়েছিল? কাজের চাপ কি অস্বাভাবিক বেড়েছে? খাবারে কি প্রোটিন ও শাকসবজির ঘাটতি আছে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই অনেক সময় সমাধানের দিকনির্দেশ দিয়ে দেয়।
খাবারের তালিকা যেভাবে চুলের স্বাস্থ্য ঠিক রাখে
চুলের প্রধান উপাদান কেরাটিন, যা এক ধরনের প্রোটিন। তাই খাবারে পর্যাপ্ত ডিম, মাছ, মুরগির মাংস, ডাল ও বাদাম রাখা খুব দরকার। আয়রনের জন্য পালংশাক, কচু শাক, কলিজা ও খেজুর উপকারী। জিংক পাওয়া যায় কুমড়োর বীজ, ছোলা ও সামুদ্রিক খাবারে। ভিটামিন সি-যুক্ত ফল যেমন আমলকী, পেয়ারা ও কমলা আয়রন শোষণে সাহায্য করে। বাঙালির প্রিয় ছোট মাছ, যেমন মলা-ঢেলা, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন এ-র দারুণ উৎস। কাজেই রোজকার সাধারণ খাবারকে একটু গুছিয়ে নিলেই চুল পড়া বন্ধ ও নতুন চুল গজানোর উপায় হিসেবে ভেতর থেকে অনেক কাজ হয়। পাশাপাশি দিনে কমপক্ষে আট গ্লাস পানি পান করা এবং রাতে সাত-আট ঘণ্টা ঘুমানোর অভ্যাস করুন।
ঘরোয়া যত্ন সহজ কিন্তু নিয়মিত
ঘরোয়া যত্নের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতাই আসল কথা। সপ্তাহে দুই-তিন দিন হালকা গরম নারিকেল তেল বা অলিভ অয়েল দিয়ে আঙুলের ডগায় মাথার ত্বকে আলতো করে ম্যাসাজ করলে রক্তসঞ্চালন ভালো হয়। তেল দিয়ে সারা রাত রেখে দেওয়ার দরকার নেই। এক-দুই ঘণ্টা রেখে মৃদু শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেললেই যথেষ্ট। অতিরিক্ত গরম পানিতে মাথা ধোয়া এড়িয়ে চলুন। ভেজা চুলে জোরে চিরুনি চালালে চুল সহজে ছিঁড়ে যায়, তাই চুল আধা শুকানোর পর চওড়া দাঁতের চিরুনি ব্যবহার করুন। পেঁয়াজের রস বা মেথির মতো ঘরোয়া উপাদান নিয়ে অনেক কথা শোনা যায়। কারও কারও উপকার হতে পারে, কিন্তু এগুলো সবার জন্য প্রমাণিত সমাধান নয়। ত্বকে অ্যালার্জি থাকলে আগে অল্প জায়গায় পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।
মেয়েদের চুল পড়া বন্ধ ও নতুন চুল গজানোর উপায়
মেয়েদের ক্ষেত্রে চুল পড়ার গল্পটা একটু আলাদা, কারণ এখানে হরমোনের ভূমিকা অনেক বেশি। সন্তান জন্মের কয়েক মাস পর বহু মায়ের চুল গোছায় গোছায় ঝরতে শুরু করে। এটি প্রসব-পরবর্তী হরমোনের পরিবর্তনের একটি সাধারণ প্রভাব, যা সাধারণত ছয় থেকে বারো মাসের মধ্যে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসে। পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম বা পিসিওএস থাকলে মাসিকের অনিয়মের সঙ্গে চুল পাতলা হয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়। এ ছাড়া আয়রনের ঘাটতি আমাদের দেশের মেয়েদের মধ্যে খুবই সাধারণ, আর এটি চুল পড়ার অন্যতম বড় কারণ।
দৈনন্দিন অভ্যাসও এখানে বড় ভূমিকা রাখে। অনেক মেয়ে প্রতিদিন চুল টানটান করে খোঁপা বা পনিটেইল বাঁধেন। এতে চুলের গোড়ায় ক্রমাগত টান পড়ে এবং সিঁথির আশেপাশে চুল পাতলা হতে থাকে। তাই ঘরে থাকলে চুল ঢিলেঢালা রাখুন, রাতে ঘুমানোর সময় হালকা বেণী করে নিন। সম্ভব হলে সিল্ক বা সাটিনের বালিশের কভার ব্যবহার করলে চুল কম ঘষা খায়। রেবন্ডিং, কালার বা ব্লো-ড্রাই খুব ঘন ঘন না করাই ভালো, কারণ তাপ ও রাসায়নিক চুলের কাঠামো দুর্বল করে দেয়।
মেয়েদের জন্য চুল পড়া বন্ধ ও নতুন চুল গজানোর উপায় হিসেবে প্রথমে রক্তের আয়রন, ফেরিটিন, ভিটামিন ডি ও থাইরয়েড পরীক্ষা করানো বেশ কার্যকর একটি পদক্ষেপ। রিপোর্টে ঘাটতি ধরা পড়লে চিকিৎসকের পরামর্শমতো সাপ্লিমেন্ট ও খাদ্যতালিকা ঠিক করলে চুলের অবস্থায় ধীরে ধীরে উন্নতি দেখা যায়। নিজে নিজে আয়রন বা বায়োটিনের ট্যাবলেট খাওয়া শুরু করে দেওয়া ঠিক নয়, কারণ অপ্রয়োজনে বেশি খেলে উল্টো সমস্যা হতে পারে।
একটা কথা মনে রাখা দরকার: চুল পড়া অনেক মেয়ের আত্মবিশ্বাসে সরাসরি আঘাত করে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের পাতলা চুল দেখে মন খারাপ হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু ধৈর্য ধরুন। চুলের চক্র ধীর গতিতে চলে, তাই যত্ন শুরু করার পর অন্তত তিন থেকে ছয় মাস পর্যন্ত নিয়মিত থাকতে হয়। দুই সপ্তাহে ফল না পেয়ে হাল ছেড়ে দিলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি নিজেরই হয়। যদি দেখেন চুল হঠাৎ গোছায় গোছায় উঠছে বা মাথার কোনো অংশে গোল হয়ে চুল উঠে গেছে, তাহলে দেরি না করে ত্বক ও চুলের চিকিৎসকের কাছে যান।
ছেলেদের চুল পড়া বন্ধ ও নতুন চুল গজানোর উপায়
ছেলেদের চুল পড়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেসিয়া, যাকে সাধারণ ভাষায় পুরুষালি টাক বলা হয়। এটি সাধারণত কপালের দুই পাশ থেকে চুল সরে আসা এবং মাথার তালুর মাঝখানে চুল পাতলা হওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়। অনেক ছেলে বিশ-পঁচিশ বছর বয়সেই এই লক্ষণ টের পান, আর তখনই বেশিরভাগ মানুষ ঘাবড়ে যান। অথচ আগেভাগে ধরা পড়লে এর অগ্রগতি অনেকটাই ধীর করা সম্ভব। এ কারণেই ছেলেদের ক্ষেত্রে চুল পড়া বন্ধ ও নতুন চুল গজানোর উপায় নিয়ে ভাবতে হলে দেরি না করে শুরুতেই পদক্ষেপ নেওয়াটা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
আমাদের ছেলেদের জীবনযাপনেও কিছু অভ্যাস চুলের জন্য ক্ষতিকর। দিনের পর দিন হেলমেট পরে বাইক চালানো, ঘামে ভেজা মাথা না ধুয়ে রাখা, অনিয়মিত খাওয়াদাওয়া, ধূমপান এবং রাত জেগে মোবাইল বা গেম নিয়ে পড়ে থাকা, এসব মিলে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে পড়ে। হেলমেট ব্যবহার অবশ্যই বন্ধ করার কথা নয়, কিন্তু ভেতরে পরিষ্কার সুতির ক্যাপ ব্যবহার করা এবং বাড়ি ফিরে মাথা ধুয়ে নেওয়া ভালো অভ্যাস। ধূমপান রক্তসঞ্চালন কমিয়ে দেয়, ফলে চুলের গোড়া পর্যাপ্ত পুষ্টি পায় না। এটি ছাড়তে পারলে চুলের পাশাপাশি পুরো শরীরের উপকার হয়।
চিকিৎসার দিক থেকে ছেলেদের জন্য কিছু প্রমাণিত পদ্ধতি আছে। মিনোক্সিডিল জাতীয় ওষুধ মাথার ত্বকে লাগিয়ে অনেকেই ভালো ফল পান, আবার ফিনাস্টেরাইডের মতো ওষুধ শুধু চিকিৎসকের পরামর্শে ও প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ব্যবহার করতে হয়। এই ওষুধগুলোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে, তাই ফার্মেসি থেকে নিজে কিনে খাওয়া একদমই উচিত নয়। এ ছাড়া পিআরপি থেরাপি এবং কিছু ক্ষেত্রে হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্টের মতো আধুনিক চিকিৎসাও এখন পাওয়া যায়। কোন পদ্ধতি আপনার জন্য উপযুক্ত, তা নির্ভর করে চুল পড়ার ধরন, বয়স ও ত্বকের অবস্থার ওপর, আর সেটি নির্ধারণ করবেন একজন অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ।
একটা সত্যি কথা বলি: টাক পড়া নিয়ে লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই। পৃথিবীর অসংখ্য আত্মবিশ্বাসী মানুষ কম চুল নিয়েই চমৎকার জীবন কাটান। তবে আপনি যদি চুল ধরে রাখতে চান, তাহলে লজ্জা বা দ্বিধা ঝেড়ে ফেলে সময়মতো সঠিক মানুষের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।
কখন অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
চুল পড়ার সমস্যা কিছু ক্ষেত্রে সাধারণ যত্নেই ঠিক হয়ে যায়, আবার কিছু ক্ষেত্রে এটি শরীরের ভেতরের কোনো সমস্যার সংকেত হয়ে থাকে। তাই যদি চুল পড়া তিন মাসের বেশি সময় ধরে চলতে থাকে, মাথার ত্বকে লালচে ভাব, ব্যথা বা ঘা দেখা দেয়, হঠাৎ করে ওজন বা মেজাজে বড় পরিবর্তন আসে, কিংবা মাথার একটি নির্দিষ্ট জায়গায় গোলাকার ফাঁকা দাগ তৈরি হয়, তাহলে আর অপেক্ষা করবেন না। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পরীক্ষা করে আসল কারণ বের করে দিলে অনর্থক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও খরচের হাত থেকে বাঁচা যায়। সাফি হেলথ কেয়ারে রয়েছে স্বল্প মূলে প্রিমিয়াম চিকিৎসাl
শেষ কথা
চুল পড়া কোনো একদিনে শুরু হয় না, আবার একদিনে বন্ধও হয় না। এর জন্য চাই সঠিক কারণ নির্ণয়, পুষ্টিকর খাবার, নিয়মিত যত্ন এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের চিকিৎসা। মেয়ে হোন বা ছেলে, শুরুতেই সচেতন হলে ফলাফল অনেক ভালো আসে। মনে রাখবেন, চুল পড়া বন্ধ ও নতুন চুল গজানোর উপায় কোনো জাদুকরি তেল বা এক রাতের সমাধানে নেই। আছে ধৈর্য, নিয়ম আর সঠিক দিকনির্দেশনায়। আজ থেকেই ছোট ছোট পরিবর্তন শুরু করুন, খাবারে প্রোটিন বাড়ান, ঘুমের সময় ঠিক করুন, মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখুন আর প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন। কয়েক মাস পর আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের চুলের পরিবর্তন দেখে আপনি নিজেই খুশি হবেন। এরপরও সমাধান না পেলে দেরি না করে যোগাযোগ করুন সাফি হেলথ কেয়ারে, আমরা আছি আপনার পাশে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে কল করুন: +8801324-530175
সাধারণ জিজ্ঞাসা
টাক করলে কি নতুন চুল গজায়?
এটি টাকের ধরন ও কারণের ওপর নির্ভর করে। অ্যালোপেসিয়া এরিয়াটা বা মানসিক চাপ, পুষ্টির ঘাটতির মতো সাময়িক কারণে টাক পড়লে চুলের গোড়া জীবিত থাকায় সঠিক চিকিৎসা ও যত্নে নতুন চুল গজাতে পারে। তবে বংশগত টাক (অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেসিয়া) বা দীর্ঘদিনের টাকে চুলের ফলিকল নষ্ট হয়ে গেলে প্রাকৃতিকভাবে চুল ওঠা কঠিন, তখন মিনোক্সিডিল, পিআরপি থেরাপি বা হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট এর মতো চিকিৎসায় ফল পাওয়া সম্ভব।
চুল ফেলানোর পর কী কী করণীয়?
চুল ফেলানোর বা মাথা ন্যাড়া করার পর স্ক্যাল্প সংবেদনশীল থাকে, তাই প্রথম কয়েক দিন হালকা ঠান্ডা পানি ও মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে মাথা পরিষ্কার রাখা এবং অ্যালোভেরা জেল বা নারকেল তেল লাগিয়ে ত্বক আর্দ্র রাখা উচিত। রোদে বের হলে সানস্ক্রিন বা টুপি ব্যবহার করুন, কারণ ন্যাড়া মাথায় রোদে পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি। ব্লেডের কারণে ত্বকে কাটা বা ইনফেকশন-এর আশঙ্কা থাকায় অ্যান্টিসেপটিক ব্যবহার করুন, আর প্রোটিন, আয়রন ও ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার খান। মনে রাখা দরকার, চুল ফেলার ফলে নতুন চুল ঘন বা দ্রুত গজায় না, এটি একটি প্রচলিত ভুল ধারণা; চুলের বৃদ্ধি নির্ভর করে গোড়ার স্বাস্থ্য ও পুষ্টির ওপর।
পেঁয়াজের রস দিলে কি নতুন চুল গজায়?
পেঁয়াজের রসে থাকা সালফার স্ক্যাল্পে রক্তসঞ্চালন বাড়াতে ও চুলের গোড়া মজবুত করতে সাহায্য করতে পারে, আর কিছু ছোট গবেষণায় অ্যালোপেসিয়া এরিয়াটা-তে আংশিক উপকারের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে বংশগত টাক বা মৃত ফলিকলে নতুন চুল গজানোর শক্ত প্রমাণ নেই, আর অনেকের ক্ষেত্রে স্ক্যাল্পে জ্বালাপোড়া বা অ্যালার্জি হতে পারে, তাই ব্যবহারের আগে অল্প জায়গায় প্যাচ টেস্ট করে নেওয়া ভালো। চুল পড়া বেশি হলে শুধু ঘরোয়া উপায়ের ওপর নির্ভর না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
কি দিলে চুল গজাবে?
চুল গজানো নির্ভর করে চুল পড়ার কারণের ওপর, তাই সব ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট জিনিস কাজ করে না। চিকিৎসকের পরামর্শে মিনোক্সিডিল, পিআরপি থেরাপি বা প্রয়োজনে ভিটামিন ও আয়রন সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়, সঙ্গে প্রোটিনসমৃদ্ধ সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ কমানোও জরুরি। ঘরোয়া উপায়ে নারকেল তেল, অ্যালোভেরা বা পেঁয়াজের রস স্ক্যাল্প সুস্থ রাখতে সাহায্য করলেও মৃত ফলিকলে নতুন চুল গজানোর নিশ্চয়তা দেয় না। তাই চুল পড়া দীর্ঘদিন চললে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে গিয়ে মূল কারণ নির্ণয় করা সবচেয়ে কার্যকর।




