ছেলেদের অতিরিক্ত চুল পড়া ও চিরতরে খুশকি দূর করার উপায়

ছেলেদের অতিরিক্ত চুল পড়া ও চিরতরে খুশকি দূর করার উপায়

চুল একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব ও আত্মবিশ্বাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের অসংখ্য তরুণ ও মধ্যবয়সী পুরুষ চুল পড়া এবং খুশকির সমস্যায় ভুগছেন। সকালে চিরুনিতে একগুচ্ছ চুল উঠে আসা, বালিশে চুলের আধিক্য কিংবা কালো শার্টের কাঁধে সাদা গুঁড়ো দেখা যে কারও মনোবল কমিয়ে দিতে পারে। এই লেখায় আমরা বিস্তারিতভাবে জানব চুল পড়া ও খুশকি দূর করার উপায় সম্পর্কে। আপনি যদি দীর্ঘদিন ধরে খুশকিতে ভুগে থাকেন, তাহলে এখানে চিরতরে খুশকি দূর করার উপায় নিয়েও বাস্তবসম্মত দিকনির্দেশনা পাবেন।

একজন পুরুষের ক্ষেত্রে সমস্যাটি আরও জটিল হয়ে ওঠে, কারণ হরমোনের প্রভাব, ধুলাবালি, হেলমেট ব্যবহার ও অনিয়মিত জীবনযাপন একসঙ্গে মাথার ত্বকের ওপর চাপ ফেলে। তাই ছেলেদের চুল পড়া ও খুশকি দূর করার উপায় জানা যেমন জরুরি, তেমনি অতিরিক্ত চুল পড়া ও খুশকি দূর করার উপায় সম্পর্কেও সঠিক ধারণা থাকা প্রয়োজন। এতে আপনি বুঝতে পারবেন কখন ঘরোয়া যত্নই যথেষ্ট এবং কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

চুল পড়া ও খুশকি দূর করার উপায়

চুল পড়া ও খুশকি দূর করার উপায়

চুল পড়া ও খুশকি দুটি আলাদা সমস্যা মনে হলেও বাস্তবে এদের মধ্যে একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে। একজন সুস্থ মানুষের মাথা থেকে প্রতিদিন গড়ে পঞ্চাশ থেকে একশটি চুল ঝরে পড়া স্বাভাবিক। কিন্তু এই সংখ্যা যখন নিয়মিতভাবে ছাড়িয়ে যায় এবং সঙ্গে মাথার ত্বকে চুলকানি, সাদা খোসা ও জ্বালাভাব দেখা দেয়, তখন বুঝতে হবে মাথার ত্বক সুস্থ নেই। খুশকির কারণে মাথার ত্বকে প্রদাহ তৈরি হয়, ফলে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে পড়ে এবং চুল সহজে ঝরতে থাকে।

খুশকির প্রধান কারণ হলো মাথার ত্বকে বসবাসকারী ম্যালাসেজিয়া নামক একধরনের ছত্রাকের অতিবৃদ্ধি। এই ছত্রাক ত্বকের তেলকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে এবং এর উপজাত পদার্থ ত্বকে জ্বালা সৃষ্টি করে। এর ফলে মৃত কোষ দ্রুত উঠে আসে এবং সাদা বা হলদেটে খোসার আকারে দেখা দেয়। এছাড়া শুষ্ক ত্বক, অতিরিক্ত তৈলাক্ত ত্বক, সেবোরিক ডার্মাটাইটিস, নিয়মিত শ্যাম্পু না করা এবং মানসিক চাপও খুশকি বাড়িয়ে দিতে পারে।

সঠিক নিয়মে মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখাই চুল পড়া ও খুশকি দূর করার উপায়-এর প্রথম ধাপ। সপ্তাহে অন্তত দুই থেকে তিনবার মৃদু শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ধোয়া উচিত। ঘাম ও ধুলাবালির কারণে যাঁদের মাথার ত্বক দ্রুত নোংরা হয়, তাঁরা এক দিন পরপরও শ্যাম্পু করতে পারেন। শ্যাম্পু করার সময় আঙুলের ডগা দিয়ে আলতো করে ত্বক মালিশ করুন, নখ দিয়ে ঘষবেন না। শ্যাম্পু অন্তত এক থেকে দুই মিনিট ত্বকে রেখে তারপর ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন, কারণ শ্যাম্পুর অবশিষ্টাংশ ত্বকে জমে থাকলে নতুন করে জ্বালাপোড়া ও খুশকি তৈরি হতে পারে।

খাদ্যাভ্যাসও এখানে বড় ভূমিকা রাখে। চুলের প্রধান উপাদান কেরাটিন একধরনের প্রোটিন, তাই ডিম, মাছ, মুরগির মাংস, ডাল ও বাদামের মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খেলে চুল শক্ত হয়। আয়রন, জিঙ্ক, ভিটামিন ডি ও বি-কমপ্লেক্সের ঘাটতি চুল পড়া ও খুশকি উভয়কেই বাড়িয়ে দিতে পারে। শাকসবজি, মৌসুমি ফল, ডিমের কুসুম ও সামুদ্রিক মাছ এসব পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান এবং প্রক্রিয়াজাত ও অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার কমিয়ে আনাও জরুরি। মোটকথা, বাহ্যিক যত্নের পাশাপাশি ভেতর থেকে পুষ্টির জোগান নিশ্চিত করাই চুল পড়া ও খুশকি দূর করার উপায় এর সবচেয়ে টেকসই ভিত্তি।

ছেলেদের চুল পড়া ও খুশকি দূর করার উপায়

ছেলেদের চুল পড়া ও খুশকি দূর করার উপায়

ছেলেদের চুল পড়ার সবচেয়ে প্রচলিত কারণ হলো অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেসিয়া, যা সাধারণ ভাষায় পুরুষালি টাক নামে পরিচিত। এটি মূলত বংশগতি ও পুরুষ হরমোন টেস্টোস্টেরনের একটি উপজাত পদার্থ ডিএইচটির সঙ্গে সম্পর্কিত। যাঁদের জিনগতভাবে চুলের গোড়া এই হরমোনের প্রতি সংবেদনশীল, তাঁদের ক্ষেত্রে চুলের গোড়া ধীরে ধীরে ছোট হতে থাকে এবং চুল সরু ও দুর্বল হয়ে যায়। সাধারণত কপালের দুই পাশ থেকে চুল পিছিয়ে যায়, যাকে অনেকে এম আকৃতির হেয়ারলাইন বলেন, অথবা মাথার তালুতে চুল পাতলা হতে থাকে।

এই কারণে ছেলেদের চুল পড়া ও খুশকি দূর করার উপায় খুঁজতে গেলে প্রথমে বোঝা দরকার চুল পড়ার ধরনটি কী। যদি কপালের দুই পাশে বা তালুতে ধীরে ধীরে চুল পাতলা হয়, তাহলে সেটি সম্ভবত বংশগত ও হরমোনজনিত। এক্ষেত্রে শুধু ঘরোয়া উপায়ে পূর্ণ সমাধান পাওয়া কঠিন, তাই ত্বক ও চুলের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। আর যদি পুরো মাথা থেকে সমানভাবে চুল ঝরে, তাহলে এর পেছনে পুষ্টির ঘাটতি, মানসিক চাপ বা অসুস্থতা থাকতে পারে।

পুরুষদের দৈনন্দিন অভ্যাসও সমস্যা বাড়ায়। যাঁরা প্রতিদিন হেলমেট পরেন, তাঁদের মাথায় ঘাম জমে থাকে এবং বাতাস চলাচল কমে যায়। এতে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়। হেলমেটের ভেতরের অংশ নিয়মিত পরিষ্কার না করলে খুশকি বাড়ে এবং চুলের গোড়ায় ফুসকুড়িও দেখা দিতে পারে। তাই হেলমেট ব্যবহারের পর মাথা শুকনো রাখা এবং হেলমেটের ভেতরের প্যাড নিয়মিত ধোয়া বা বদলানো উচিত।

আরেকটি বড় সমস্যা হলো হেয়ার জেল, ওয়াক্স ও স্প্রের অতিরিক্ত ব্যবহার। এসব পণ্য মাথার ত্বকের লোমকূপ বন্ধ করে দিতে পারে। এগুলো ব্যবহার করলে রাতে ঘুমানোর আগে অবশ্যই মাথা ধুয়ে ফেলা ভালো। সেই সঙ্গে ধূমপান, রাত জাগা ও অতিরিক্ত মানসিক চাপ পুরুষদের চুল পড়ার ঝুঁকি বাড়ায়। গবেষণায় দেখা গেছে, ধূমপান মাথার ত্বকের রক্তসঞ্চালন কমিয়ে দেয়, ফলে চুলের গোড়া প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ও পুষ্টি পায় না। প্রতিদিন সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম, নিয়মিত ব্যায়াম ও ধ্যানের অভ্যাস করা ছেলেদের চুল পড়া ও খুশকি দূর করার উপায়-এর একটি কার্যকর অংশ।

নাপিতের দোকানের স্বাস্থ্যবিধি নিয়েও সচেতন থাকা দরকার। একই চিরুনি, ব্রাশ বা তোয়ালে বহু মানুষের ওপর ব্যবহৃত হলে মাথার ত্বকের সংক্রমণ ছড়াতে পারে। তাই সম্ভব হলে নিজের চিরুনি ও তোয়ালে ব্যবহার করুন। আপনার নিজের তোয়ালে, বালিশের কভার ও টুপিও সপ্তাহে অন্তত একবার পরিষ্কার করা উচিত। এই ছোট অভ্যাসগুলো মেনে চললে দীর্ঘমেয়াদে চিরতরে খুশকি দূর করার উপায়-এর পথও সহজ হয়ে যায়।

অতিরিক্ত চুল পড়া ও খুশকি দূর করার উপায়

প্রতিদিন একশটির বেশি চুল টানা কয়েক সপ্তাহ বা মাস ধরে পড়তে থাকলে তাকে অতিরিক্ত চুল পড়া হিসেবে ধরা যায়। এর পেছনে সবসময় একটিমাত্র কারণ থাকে না। টেলোজেন এফ্লুভিয়াম নামক অবস্থায় শরীর কোনো বড় ধাক্কা, যেমন তীব্র জ্বর, সার্জারি, হঠাৎ ওজন কমানো বা গভীর মানসিক চাপের পর বিপুল সংখ্যক চুলকে একসঙ্গে বিশ্রামের পর্যায়ে ঠেলে দেয়। এর কয়েক সপ্তাহ বা মাস পরে প্রচুর চুল ঝরতে শুরু করে। এছাড়া থাইরয়েডের সমস্যা, রক্তস্বল্পতা, ভিটামিন ডি বা বি১২ এর ঘাটতি এবং কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও এর কারণ হতে পারে।

এজন্য অতিরিক্ত চুল পড়া ও খুশকি দূর করার উপায় খুঁজতে হলে প্রথমে মূল কারণ নির্ণয় করা জরুরি। কারণ না জেনে বাজারের যেকোনো তেল বা শ্যাম্পু ব্যবহার করলে সময় ও অর্থ দুটোই নষ্ট হতে পারে। চুল পড়া দীর্ঘদিন ধরে চললে চিকিৎসক সাধারণত কিছু পরীক্ষা দিতে পারেন, যেমন সিবিসি, ফেরিটিন বা আয়রনের মাত্রা, থাইরয়েড হরমোন, ভিটামিন ডি ও ভিটামিন বি১২। রিপোর্ট অনুযায়ী ঘাটতি পূরণ করলে অনেক ক্ষেত্রেই চুল পড়া ধীরে ধীরে কমে আসে।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত তা জানাও গুরুত্বপূর্ণ। যদি এক থেকে দুই মাসের মধ্যে চুল পড়া থামার লক্ষণ না দেখা যায়, মাথার কোথাও গোল বা চাকা আকৃতির টাক পড়ে, মাথার ত্বকে লালচে ঘা, পুঁজ বা তীব্র ব্যথা হয়, কিংবা চুল পড়ার সঙ্গে ক্লান্তি, ওজনের হঠাৎ পরিবর্তন ও শরীরে অন্যান্য উপসর্গ থাকে, তাহলে দেরি না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞকে দেখানো উচিত। অতিরিক্ত চুল পড়া ও খুশকি দূর করার উপায় হিসেবে চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী মিনক্সিডিল জাতীয় ওষুধ, পুষ্টি সম্পূরক বা অন্যান্য চিকিৎসা দিতে পারেন। ফিনাস্টেরাইডের মতো ওষুধ কেবল চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ীই ব্যবহার করা উচিত, কারণ এগুলোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে পিআরপি থেরাপি বা অন্যান্য আধুনিক চিকিৎসাও বিবেচনা করা হয়, তবে সেটি অবশ্যই বিশেষজ্ঞের মূল্যায়নের পর।

অতিরিক্ত চুল পড়ার সময় চুলের প্রতি অতিরিক্ত নির্দয় আচরণ এড়ানো দরকার। ভেজা চুলে জোরে চিরুনি চালানো, ঘন ঘন হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার, রাসায়নিক রং বা স্ট্রেইটনিং এবং অতিরিক্ত গরম পানিতে মাথা ধোয়া চুলকে আরও দুর্বল করে। বরং সাধারণ তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করুন এবং চওড়া চিরুনি দিয়ে আলতো করে চুল আঁচড়ান। আপনার চুল পড়ার সমস্যায় খুশকিও যুক্ত থাকলে খুশকির চিকিৎসা একই সঙ্গে চালিয়ে যাওয়া জরুরি, কারণ ত্বকের প্রদাহ কমলে চুলের গোড়া পুনরায় সুস্থ হওয়ার সুযোগ পায়। মনে রাখবেন, নতুন চুল গজাতে সময় লাগে। অন্তত তিন থেকে ছয় মাস ধৈর্য ধরে নিয়মিত চিকিৎসা ও যত্ন চালিয়ে গেলেই ফল দেখা সম্ভব। এ কারণেই অতিরিক্ত চুল পড়া ও খুশকি দূর করার উপায় হিসেবে কোনো তাৎক্ষণিক জাদুকরী সমাধানের পেছনে না ছুটে ধারাবাহিক ও বিজ্ঞানসম্মত যত্ন বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

চিরতরে খুশকি দূর করার উপায়

চিরতরে খুশকি দূর করার উপায়

এখানে একটি বাস্তব কথা স্পষ্ট করে বলা দরকার। খুশকি মূলত একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রবণতা, যা সঠিক যত্নে প্রায় সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। তবে অনেকের ক্ষেত্রে চিকিৎসা বন্ধ করে দিলে বা আগের অভ্যাসে ফিরে গেলে সমস্যা আবার ফিরে আসতে পারে। তাই চিরতরে খুশকি দূর করার উপায় বলতে আসলে বোঝায় এমন একটি টেকসই যত্নের রুটিন গড়ে তোলা, যা খুশকিকে দীর্ঘ সময় ধরে দূরে রাখে।

প্রথম ও সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ হলো সঠিক অ্যান্টিডেন্ড্রাফ শ্যাম্পু বেছে নেওয়া। শ্যাম্পুর লেবেলে কেটোকোনাজল, জিঙ্ক পাইরিথিয়ন, সেলেনিয়াম সালফাইড, স্যালিসিলিক অ্যাসিড বা কোল টার আছে কি না দেখে নিন। কেটোকোনাজল ও জিঙ্ক পাইরিথিয়ন ছত্রাক কমাতে সাহায্য করে, স্যালিসিলিক অ্যাসিড মৃত কোষের স্তর আলগা করে এবং সেলেনিয়াম সালফাইড কোষের অতিদ্রুত বৃদ্ধি ধীর করে। চিরতরে খুশকি দূর করার উপায় হিসেবে এই শ্যাম্পুগুলোই বিজ্ঞানসম্মতভাবে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য।

ব্যবহারের পদ্ধতিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমে চুল ভিজিয়ে নিন, তারপর শ্যাম্পু মাথার ত্বকে লাগিয়ে আলতো করে মালিশ করুন। এরপর অন্তত তিন থেকে পাঁচ মিনিট শ্যাম্পুটি ত্বকে রেখে দিন, যাতে সক্রিয় উপাদান কাজ করার সময় পায়। তারপর ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। শুরুতে সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করুন এবং খুশকি নিয়ন্ত্রণে এলে সপ্তাহে একবার বা পনেরো দিনে একবার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ব্যবহার করুন। একই শ্যাম্পু দীর্ঘদিন ব্যবহারে ফল কমে গেলে মাঝেমধ্যে ভিন্ন সক্রিয় উপাদানের শ্যাম্পু পরিবর্তন করে ব্যবহার করা করুণ। এভাবে ধারাবাহিক নিয়ম মানলেই চিরতরে খুশকি দূর করার উপায় বাস্তবে কাজ করে।

অনেকে ঘরোয়া উপায়ের ওপর ভরসা করেন, এবং কিছু উপায় সহায়ক হতে পারে। অ্যালোভেরা জেল মাথার ত্বকে লাগালে প্রদাহ ও চুলকানি কিছুটা কমে। দইয়ের মাস্ক ত্বককে ঠান্ডা রাখে এবং মৃদু অ্যাসিডিক প্রভাবে সহায়তা করে। মেথি ভিজিয়ে বেটে লাগানোর প্রচলন আছে এবং নিমপাতার পানি দিয়ে মাথা ধোয়াও অনেকে ব্যবহার করেন। টি ট্রি অয়েল পাতলা করে ব্যবহার করলে ছত্রাকরোধী গুণের কারণে সুবিধা পাওয়া যেতে পারে, তবে সরাসরি ত্বকে লাগালে অ্যালার্জি হতে পারে, তাই আগে অল্প জায়গায় পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। লেবুর রস সরাসরি মাথায় লাগানো থেকে বিরত থাকুন, কারণ এটি ত্বকে জ্বালা ও শুষ্কতা বাড়াতে পারে। একইভাবে সেবোরিক ডার্মাটাইটিসে ভোগা ব্যক্তিদের জন্য মাথায় অতিরিক্ত তেল মাখা উল্টো সমস্যা বাড়াতে পারে। এসব ঘরোয়া পদ্ধতি সহায়ক হতে পারে, কিন্তু একা এগুলোই চিরতরে খুশকি দূর করার উপায় নয়, বরং ঔষধযুক্ত শ্যাম্পুর সঙ্গে সহায়ক হিসেবেই এগুলো ব্যবহার করা ভালো।

জীবনযাত্রার কিছু পরিবর্তনও খুশকি ফিরে আসা ঠেকায়। প্রথমত, মানসিক চাপ কমান, কারণ চাপ বাড়লে খুশকি প্রায়ই বেড়ে যায়। দ্বিতীয়ত, সূর্যের আলোয় নিয়মিত অল্প সময় কাটানো ত্বকের জন্য উপকারী। তৃতীয়ত, মিষ্টি ও অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার কমিয়ে ভিটামিন বি ও জিঙ্কসমৃদ্ধ খাবার, যেমন ডিম, বাদাম, ডাল ও শাকসবজি বাড়ান। চতুর্থত, চুলকালে নখ দিয়ে আঁচড়াবেন না, কারণ এতে ত্বকে ক্ষত তৈরি হয় এবং সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। এছাড়া ব্যবহৃত চিরুনি, টুপি ও বালিশের কভার নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন। এই ছোট ছোট অভ্যাসই চিরতরে খুশকি দূর করার উপায়কে দীর্ঘস্থায়ী সাফল্যে রূপ দেয়।

যদি দুই থেকে চার সপ্তাহ ধরে সঠিক শ্যাম্পু ব্যবহারের পরও খুশকি না কমে, মাথায় লালচে ঘা, হলুদ আঠালো স্তর বা অসহ্য চুলকানি থাকে, কিংবা খুশকি কপাল, কান ও ভ্রুতে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে এটি সেবোরিক ডার্মাটাইটিস বা সোরিয়াসিসের মতো অন্য কোনো ত্বকের রোগ হতে পারে। তখন নিজে নিজে ওষুধ বদলানোর বদলে একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। প্রয়োজনে চিকিৎসক শক্তিশালী অ্যান্টিফাঙ্গাল শ্যাম্পু বা স্টেরয়েডযুক্ত লোশন দিতে পারেন, যা অবশ্যই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ও নির্দেশনা মেনে ব্যবহার করতে হয়।

শেষ কথা

চুল পড়া ও খুশকি শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যের সমস্যা নয়, এটি অনেক সময় শরীরের ভেতরের পুষ্টি, হরমোন ও জীবনযাত্রার প্রতিফলনও। প্রথমে কারণ চিহ্নিত করা, তারপর সঠিক শ্যাম্পু, সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক প্রশান্তি নিশ্চিত করা, এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া, এই ধারাবাহিক ধাপগুলোই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান। সঠিক নিয়ম মেনে চললে চুল পড়া ও খুশকি দূর করার উপায় আপনার জন্য সহজ ও সফল হবে। বিশেষ করে ছেলেদের চুল পড়া ও খুশকি দূর করার উপায় হিসেবে নিজের জীবনযাত্রার অভ্যাসগুলোকে সংশোধন করা এবং অতিরিক্ত চুল পড়া ও খুশকি দূর করার উপায় হিসেবে সময়মতো চিকিৎসকের সহায়তা নেওয়া সুফল দেবে। আর চিরতরে খুশকি দূর করার উপায় মূলত নিয়মিত যত্ন ও সচেতনতার ওপরই নির্ভর করে। আজ থেকেই ছোট ছোট পরিবর্তন শুরু করুন, আপনার চুল ও আত্মবিশ্বাস দুটোই ফিরে আসবে।

অন্য কোথাও আপনার কাঙ্ক্ষিত সমাধান না পেলে এবার নির্ভার হয়ে ভরসা রাখুন শাফী হেলথ কেয়ার এর ওপর। আমাদের অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রোগের সঠিক কারণ নির্ণয় করে দেওয়া হয় কার্যকর ও নির্ভরযোগ্য চিকিৎসাসেবা। আজই অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করতে কল করুন: +8801324-530175

 

বিস্তারিত জানুন: চুল পড়া বন্ধ করার উপায় এবং নতুন চুল গজানোর উপায়

বিস্তারিত জানুন: অল্প বয়সে চুল পড়ার কারণ ও প্রতিকার

বিস্তারিত জানুন: ছেলেদের চুল পড়া বন্ধ ও নতুন চুল গজানোর উপায়

 

সাধারণ জিজ্ঞাসা

মাথায় অতিরিক্ত খুশকির প্রধান কারণ হলো ম্যালাসেজিয়া নামক ফাঙ্গাসের অতিরিক্ত বৃদ্ধি, যা মাথার ত্বকের তেল খেয়ে বেঁচে থাকে এবং ত্বকে জ্বালা তৈরি করে মৃত কোষ দ্রুত ঝরাতে থাকে। এছাড়া অতিরিক্ত তেলতেলে বা খুব শুষ্ক ত্বক, নিয়মিত শ্যাম্পু না করা বা ভুল শ্যাম্পু ব্যবহার, সেবোরিক ডার্মাটাইটিস ও একজিমার মতো ত্বকের সমস্যা এবং শ্যাম্পু বা হেয়ার প্রোডাক্টে অ্যালার্জি খুশকি বাড়াতে পারে। পাশাপাশি মানসিক চাপ, হরমোনের পরিবর্তন, অপর্যাপ্ত ঘুম, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস (জিঙ্ক ও ভিটামিন বি-এর ঘাটতি) এবং শীতকালের শুষ্ক আবহাওয়াও এর পেছনে ভূমিকা রাখে। সমস্যা বেশি হলে বা চুলকানি, লালচে ভাব ও ঘা দেখা দিলে একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ছেলেদের চুলের ক্রিম বলতে সাধারণত হেয়ার স্টাইলিং ক্রিম বোঝায়, যা চুল সেট করার পাশাপাশি আর্দ্রতা ধরে রাখে। চুল শুষ্ক বা কোঁকড়া হলে হেয়ার ক্রিম বা পোমেড ভালো, কারণ এটি চুলে ময়েশ্চার ও হালকা হোল্ড দেয়; আর তেলতেলে মাথার ত্বকে ওয়াটার-বেসড হেয়ার জেল বা ম্যাট ক্লে বেশি মানানসই, যা ভারী লাগে না। বাজারে ল'রিয়াল মেন এক্সপার্ট, পার্ক অ্যাভিনিউ, ভ্যাসলিন মেন, নিভিয়া মেন এবং অ্যাক্স ব্র্যান্ডের প্রোডাক্ট সহজে পাওয়া যায়, তবে কেনার আগে অ্যালকোহল ও কড়া কেমিক্যালমুক্ত কিনা দেখে নেওয়া ভালো, কারণ এগুলো খুশকি ও চুল পড়া বাড়াতে পারে। আপনার চুলের ধরন (শুষ্ক, তেলতেলে, নাকি পাতলা) জানালে আরও নির্দিষ্ট পরামর্শ দিতে পারব।

ছেলেদের জন্য সাধারণত সপ্তাহে ২-৩ বার শ্যাম্পু করা যথেষ্ট, তবে এটি চুলের ধরন ও জীবনযাত্রার ওপর নির্ভর করে। তেলতেলে মাথার ত্বক বা খুব ঘাম-ধুলোর মধ্যে কাজ করলে (যেমন বাইরে বেশি ঘোরাঘুরি বা জিম) একদিন পরপর শ্যাম্পু করা যেতে পারে, আর শুষ্ক বা কোঁকড়া চুলে সপ্তাহে ২ বারই ভালো, কারণ বেশি শ্যাম্পুতে চুলের প্রাকৃতিক তেল চলে গিয়ে শুষ্কতা ও খুশকি বাড়তে পারে। খুশকির সমস্যা থাকলে অ্যান্টি-ডেন্ড্রাফ শ্যাম্পু সপ্তাহে ২-৩ বার ব্যবহার করে ৩-৫ মিনিট মাথায় রেখে ধোয়া উচিত। শ্যাম্পু শুধু মাথার ত্বকে ভালো করে লাগান, চুলের আগায় নয়, আর কুসুম গরম বা ঠান্ডা পানি ব্যবহার করুন।

চুলের গোড়ায় সাদা দানা সাধারণত জমে থাকা মৃত কোষ, তেল ও খুশকি, অথবা হেয়ার ফলিকলের ব্লকেজ বা ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ থেকে হয়। প্রথমত, অ্যান্টি-ডেন্ড্রাফ বা স্যালিসাইলিক অ্যাসিড শ্যাম্পু সপ্তাহে ২-৩ বার ব্যবহার করে আলতো করে মাথার ত্বক ম্যাসাজ করুন, এতে জমে থাকা মৃত কোষ ও তেল পরিষ্কার হয়। দ্বিতীয়ত, টি ট্রি অয়েল (নারকেল তেলের সাথে মিশিয়ে) বা অ্যালোভেরা জেল লাগালে প্রদাহ ও ব্যাকটেরিয়া কমতে সাহায্য করতে পারে। তৃতীয়ত, নখ দিয়ে দানা খুঁটবেন না বা চিপবেন না, কারণ এতে সংক্রমণ ও দাগ হতে পারে; পাশাপাশি চিরুনি, তোয়ালে ও বালিশের কভার নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন। দানা বড় হলে, ব্যথা, পুঁজ বা চুল পড়া দেখা দিলে অবশ্যই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ দেখান, কারণ তখন অ্যান্টিবায়োটিক বা মেডিকেটেড ক্রিমের প্রয়োজন হতে পারে।

 সরাসরি নয়, তবে খুশকির কারণে মাথার ত্বকে চুলকানি ও প্রদাহ হলে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে যায় এবং বারবার চুলকানোর ফলে চুল ছিঁড়ে যায়। তাই চুল পড়া ও খুশকি দূর করার উপায় একসঙ্গে অনুসরণ করাই সবচেয়ে ফলপ্রসূ।

মৃদু শ্যাম্পু ব্যবহার করলে প্রতিদিন মাথা ধোয়া ক্ষতিকর নয়। বরং যাঁদের ঘাম ও ধুলাবালি বেশি, তাঁদের ক্ষেত্রে এটি উপকারী। তবে কড়া রাসায়নিকযুক্ত শ্যাম্পু এড়িয়ে চলা ভালো। ছেলেদের চুল পড়া ও খুশকি দূর করার উপায় হিসেবে নিজের ত্বকের ধরন বুঝে শ্যাম্পু বেছে নিন।

সবার ক্ষেত্রে নয়। শুষ্ক ত্বকের খুশকিতে অল্প তেল সাহায্য করতে পারে, কিন্তু তৈলাক্ত বা সেবোরিক ধরনের খুশকিতে অতিরিক্ত তেল সমস্যা বাড়াতে পারে।

 

Related Posts

চুলের পিআরপি কি এই থেরাপি খরচ ও চিকিৎসা সম্পর্কে জানুন!!

চুলের পিআরপি কি? এই থেরাপি খরচ ও চিকিৎসা সম্পর্কে জানুন!!

চুল পড়া এখন বাংলাদেশের নারী-পুরুষ উভয়ের কাছেই একটি পরিচিত সমস্যা। দূষণ, মানসিক চাপ, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ও বংশগত কারণে অনেকেই অল্প বয়সেই চুল পাতলা হওয়া বা টাক পড়ার সমস্যায়

Read More
Scroll to Top