আজকের দিনে ছেলে মেয়ে নির্বিশেষে অনেকেই চুল পড়ার সমস্যায় ভুগছেন। সকালে বালিশে, চিরুনিতে কিংবা গোসলের সময় ড্রেনে চুলের গোছা দেখলে স্বাভাবিকভাবেই দুশ্চিন্তা হয়। বাংলাদেশের আবহাওয়া, দূষণ, অনিয়মিত জীবনযাপন এবং খাদ্যাভ্যাসের কারণে এই সমস্যা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। তবে ভালো খবর হলো, সঠিক কারণ শনাক্ত করে সময়মতো ব্যবস্থা নিলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চুল পড়া নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। এই লেখায় আমরা সহজ ভাষায় জানব চুল পড়া বন্ধ করার উপায় কি, ছেলেদের জন্য আলাদা কোন বিষয়গুলো মাথায় রাখা জরুরি, কীভাবে নতুন চুল গজানোর পরিবেশ তৈরি করা যায় এবং কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
চুল পড়া বন্ধ করার উপায় কি?
প্রথমেই একটি বিষয় পরিষ্কার হওয়া দরকার। প্রতিদিন কিছু চুল পড়া সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। একজন সুস্থ মানুষের মাথায় গড়ে এক লক্ষের মতো চুল থাকে এবং প্রতিদিন পঞ্চাশ থেকে একশটি চুল ঝরে যাওয়া শরীরের স্বাভাবিক চক্রেরই অংশ। কারণ প্রতিটি চুল একটি নির্দিষ্ট বৃদ্ধির পর্যায় পেরিয়ে বিশ্রামের পর্যায়ে যায়, তারপর ঝরে পড়ে এবং সেই জায়গায় নতুন চুল গজায়। সমস্যা শুরু হয় তখন, যখন প্রতিদিনের ঝরে পড়া চুলের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায় অথবা ঝরে যাওয়া জায়গায় নতুন চুল আর গজায় না। তাই চুল পড়া বন্ধ করার উপায় খুঁজতে গেলে আগে বুঝতে হবে আপনার চুল কেন পড়ছে।
চুল পড়ার কারণ বহুবিধ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় পুষ্টির ঘাটতি, বিশেষ করে আয়রন, জিংক, প্রোটিন, ভিটামিন ডি এবং ভিটামিন বি১২-এর অভাব। আমাদের দেশে অনেক মানুষের, বিশেষ করে নারীদের শরীরে আয়রনের ঘাটতি থাকে, যা চুল পাতলা হয়ে যাওয়ার একটি বড় কারণ। এ ছাড়া অতিরিক্ত মানসিক চাপ, দীর্ঘদিন অনিদ্রা, জ্বর বা বড় ধরনের অসুস্থতার পরবর্তী সময়, থাইরয়েডের সমস্যা, হরমোনের তারতম্য, প্রসব-পরবর্তী সময় এবং কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও চুল পড়ার কারণ হতে পারে। মাথার ত্বকে খুশকি, ছত্রাকের সংক্রমণ কিংবা অতিরিক্ত তেল জমে থাকলেও চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে যায়। কারণ ভিন্ন হলে সমাধানও ভিন্ন হয়, তাই অন্ধভাবে কোনো তেল বা শ্যাম্পু ব্যবহার করার আগে একটু ভেবে দেখা উচিত।
ঘরোয়া যত্নের দিক থেকে প্রথমে নজর দিতে হবে খাদ্যাভ্যাসে। প্রতিদিনের খাবারে ডিম, মাছ, মুরগির মাংস, ডাল, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার রাখলে চুলের প্রধান উপাদান কেরাটিন তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন পাওয়া যায়। পালংশাক, লালশাক, কচু শাক এবং অন্যান্য গাঢ় সবুজ শাকসবজি আয়রনের ভালো উৎস। বাদাম, বীজ, মৌসুমি ফল এবং ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার আয়রন শোষণে সাহায্য করে। অপরদিকে অতিরিক্ত চিনি, ভাজাপোড়া ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কমিয়ে দেওয়া ভালো। পাশাপাশি প্রচুর পানি পান করা এবং রাতে অন্তত সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমানোও চুলের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ঘুমের সময়ই শরীর নিজের কোষ মেরামত করে।
চুলের বাইরের যত্নের ক্ষেত্রেও কিছু সহজ নিয়ম মেনে চলা প্রয়োজন। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার মৃদু শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ধোয়া যথেষ্ট, তবে মাথার ত্বক যদি খুব তৈলাক্ত হয় তাহলে বেশি ধুতে হতে পারে। খুব গরম পানি দিয়ে মাথা ধুলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায় এবং চুলের গোড়া দুর্বল হয়। ভেজা চুলে জোরে চিরুনি চালানো বা শক্ত করে বেঁধে রাখা থেকেও বিরত থাকা উচিত, কারণ ভেজা অবস্থায় চুল সবচেয়ে ভঙ্গুর থাকে। ঘন ঘন ব্লো ড্রাই, স্ট্রেইটনার, রাসায়নিক রং বা কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট চুলের ক্ষতি করে। সপ্তাহে একবার বা দুইবার নারকেল তেল, আমন্ড তেল বা অলিভ অয়েল হালকা গরম করে মাথার ত্বকে আলতো করে ম্যাসাজ করলে রক্ত চলাচল বাড়ে এবং চুল নরম থাকে। তবে মনে রাখতে হবে, তেল ম্যাসাজ চুলের যত্নে সহায়ক হলেও এটি একা কোনো রোগজনিত চুল পড়া সারাতে পারে না।
এবার আসা যাক নতুন চুল গজানোর প্রসঙ্গে। নতুন চুল গজানোর জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো চুলের গোড়া, অর্থাৎ হেয়ার ফলিকলকে সচল রাখা। যেসব ক্ষেত্রে চুল পড়ার কারণ সাময়িক, যেমন জ্বরের পরবর্তী সময়, মানসিক চাপ বা পুষ্টির ঘাটতি, সেখানে মূল কারণটি দূর করলে তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে ফলিকল আবার সক্রিয় হয় এবং নতুন চুল গজাতে শুরু করে। এই সময়ে ধৈর্য ধরা খুব দরকার, কারণ চুল প্রতি মাসে গড়ে মাত্র আধা ইঞ্চির মতো বাড়ে। নতুন চুল গজানোর উপায় হিসেবে অনেকে পেঁয়াজের রস, মেথি, আমলকি, অ্যালোভেরা বা ভৃঙ্গরাজ তেলের কথা বলেন। এগুলো মাথার ত্বকের যত্নে কিছুটা সাহায্য করতে পারে এবং অনেকের ক্ষেত্রে ভালো ফল পাওয়া যায়, তবে এসবের কার্যকারিতা নিয়ে শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সীমিত। কারও ত্বকে অ্যালার্জি থাকলে এগুলো প্রয়োগের আগে অল্প জায়গায় পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। যেখানে চুলের গোড়া স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে গেছে, সেখানে ঘরোয়া পদ্ধতিতে নতুন চুল গজানো সম্ভব নয়; তখন চিকিৎসকের পরামর্শে আধুনিক চিকিৎসার দিকে যেতে হয়।
চুল পড়া বন্ধ করার উপায় ছেলেদের
ছেলেদের চুল পড়ার সবচেয়ে বড় কারণ হলো অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেসিয়া, যা সাধারণ ভাষায় পুরুষালি টাক বা প্যাটার্ন বেল্ডনেস নামে পরিচিত। এটি মূলত বংশগত এবং শরীরের ডিএইচটি নামক একটি হরমোনের সঙ্গে সম্পর্কিত। যাদের জিনগত প্রবণতা আছে, তাদের চুলের গোড়া এই হরমোনের প্রতি বেশি সংবেদনশীল হয়, ফলে ধীরে ধীরে চুলের গোড়া ছোট হয়ে আসে এবং চুল সরু ও দুর্বল হতে থাকে। সাধারণত কপালের দুই পাশ থেকে চুল সরে গিয়ে এম আকৃতি তৈরি হয় এবং মাথার তালুর মাঝখানে চুল পাতলা হতে থাকে। কিশোর বয়সের শেষ দিক থেকে শুরু করে বিশ-পঁচিশ বছর বয়সেও এটি শুরু হতে পারে। তাই তরুণ বয়সে চুল পাতলা হতে দেখলে অবহেলা না করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়াই ভালো। ছেলেদের জন্য চুল পড়া বন্ধ করার উপায় নিয়ে ভাবলে প্রথমেই বুঝতে হবে, বংশগত টাক পুরোপুরি রোধ করা কঠিন হলেও প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা শুরু করলে এর গতি অনেকটাই কমিয়ে আনা যায়।
ছেলেদের জীবনযাত্রার কিছু অভ্যাসও চুল পড়াকে বাড়িয়ে দিতে পারে। দীর্ঘ সময় হেলমেট বা টুপি পরে থাকলে মাথার ত্বকে ঘাম ও জীবাণু জমে খুশকি ও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। ধূমপান রক্তসঞ্চালন কমিয়ে দেয়, ফলে চুলের গোড়ায় পর্যাপ্ত পুষ্টি পৌঁছায় না। রাত জাগা, অতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং দ্রুত ওজন কমানোর জন্য কঠোর ডায়েট করাও চুল পড়ার বড় কারণ। জিমে যারা শরীর গঠনের জন্য নিয়ম না মেনে স্টেরয়েড বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন, তাদের ক্ষেত্রে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে চুল দ্রুত পড়ে যেতে পারে। এ ছাড়া প্রতিদিন কড়া শ্যাম্পু ব্যবহার, চুলে অতিরিক্ত জেল বা ওয়াক্স লাগানো এবং ধুলোবালি-দূষণের মধ্যে চুল পরিষ্কার না রাখাও সমস্যাকে জটিল করে। এই অভ্যাসগুলো শুধরে নিলে চুলের স্বাস্থ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আসা সম্ভব।
ছেলেদের জন্য কার্যকর কিছু ঘরোয়া নিয়মের কথা বলা যায়। নিয়মিত মৃদু শ্যাম্পু ব্যবহার করে মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখা, খুশকি থাকলে অ্যান্টি-ডেনড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করা, সুষম খাবার খাওয়া এবং নিয়মিত ব্যায়াম করা চুলের জন্য উপকারী। ব্যায়ামের ফলে রক্তসঞ্চালন বাড়ে এবং মানসিক চাপ কমে, যা পরোক্ষভাবে চুলকে সুরক্ষা দেয়। ধূমপান ছেড়ে দেওয়া এবং ঘুমের সময়সূচি ঠিক রাখা একই রকম গুরুত্বপূর্ণ। চুল আঁচড়ানোর সময় চওড়া দাঁতের চিরুনি ব্যবহার করলে চুলের টান কম পড়ে। এসব নিয়ম মেনে চললে চুলের গোড়া তুলনামূলক সুস্থ থাকে, তবে বংশগত টাকের ক্ষেত্রে শুধু ঘরোয়া যত্ন যথেষ্ট নাও হতে পারে। সেখানে ছেলেদের চুল পড়া বন্ধ করার উপায় হিসেবে চিকিৎসকের দেওয়া নির্দিষ্ট চিকিৎসাই সবচেয়ে ফলপ্রসূ হয়।
বাজারে চুল পড়া বন্ধ করার নামে অসংখ্য বিজ্ঞাপন, তেল, ক্যাপসুল এবং ম্যাজিক সমাধানের দাবি দেখা যায়। এসবের অনেকগুলোর কোনো প্রমাণিত কার্যকারিতা নেই এবং অনেক সময় এতে সময় ও টাকা দুটোই নষ্ট হয়। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া বন্ধুবান্ধব বা অনলাইন বিজ্ঞাপন দেখে ওষুধ কিনে খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। বিশেষ করে ফিনাস্টেরাইড জাতীয় ওষুধ কেবল চিকিৎসকের পরামর্শেই গ্রহণ করতে হয়, কারণ এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে এবং এটি সবার জন্য উপযুক্ত নয়। চুল পড়ার ক্ষেত্রে দ্রুত ফল পাওয়ার আশায় নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে একটি বিশ্বস্ত পদ্ধতি বেছে নিয়ে ধৈর্য ধরে সেটি অনুসরণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
চুল পড়া বন্ধ করার উপায় ডাক্তারের পরামর্শ
কিছু লক্ষণ দেখা দিলে ঘরোয়া যত্নের ওপর ভরসা না করে সরাসরি চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত। যেমন, হঠাৎ করে অনেক বেশি পরিমাণে চুল পড়তে শুরু করলে, মাথার কোনো নির্দিষ্ট জায়গায় গোল বা চাকা আকারে চুল উঠে গেলে, মাথার ত্বকে লালচে ভাব, চুলকানি, ব্যথা বা ফুসকুড়ি দেখা দিলে, কিংবা চুল পড়ার সঙ্গে ক্লান্তি, ওজনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন, মাসিকের অনিয়ম বা ত্বকের শুষ্কতার মতো অন্যান্য উপসর্গ থাকলে দেরি করা ঠিক নয়। কারণ এসব ক্ষেত্রে চুল পড়া অনেক সময় শরীরের ভেতরের কোনো সমস্যার বহিঃপ্রকাশ হতে পারে। এ ধরনের সমস্যায় চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ বা ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে উপযুক্ত। তাই চুল পড়া বন্ধ করার উপায় ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খোঁজাই নিরাপদ ও কার্যকর পথ।
চিকিৎসক সাধারণত প্রথমে আপনার চুল পড়ার ইতিহাস, পারিবারিক ইতিহাস, খাদ্যাভ্যাস, ওষুধ সেবন এবং জীবনযাত্রা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। এরপর মাথার ত্বক ও চুলের গোড়া পরীক্ষা করেন, প্রয়োজনে ডার্মোস্কোপি করে দেখেন। কারণ নির্ণয়ের জন্য কিছু রক্ত পরীক্ষা দেওয়া হতে পারে, যেমন সিবিসি, সিরাম ফেরিটিন, থাইরয়েড ফাংশন টেস্ট, ভিটামিন ডি ও বি১২ এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে হরমোন পরীক্ষা। এই পরীক্ষার ফলাফল দেখে চিকিৎসক নির্ধারণ করেন, চুল পড়ার প্রধান কারণ পুষ্টির অভাব, হরমোনের সমস্যা, সংক্রমণ নাকি বংশগত প্রবণতা। কারণ জানা থাকলে চিকিৎসা অনেক বেশি লক্ষ্যভিত্তিক ও কার্যকর হয়।
চিকিৎসার ধরন নির্ভর করে কারণের ওপর। পুষ্টির ঘাটতি থাকলে আয়রন, ভিটামিন বা জিংকের সাপ্লিমেন্ট দেওয়া হতে পারে। মাথার ত্বকে সংক্রমণ থাকলে অ্যান্টিফাঙ্গাল শ্যাম্পু বা ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শ আসে। বংশগত চুল পড়ার ক্ষেত্রে মিনোক্সিডিল নামক একটি লোশন বা ফোম সাধারণত ব্যবহার করা হয়, যা চুলের গোড়ায় রক্তসঞ্চালন বাড়িয়ে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে ফিনাস্টেরাইড জাতীয় ওষুধ দেওয়া হতে পারে, যা ডিএইচটি হরমোনের প্রভাব কমায়। এসব ওষুধের ফল দেখতে সাধারণত তিন থেকে ছয় মাস সময় লাগে এবং ব্যবহার বন্ধ করলে আবার চুল পড়ার সম্ভাবনা থাকে, তাই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি। কিছু ক্ষেত্রে পিআরপি থেরাপি, লো-লেভেল লেজার থেরাপি বা মেসোথেরাপির মতো পদ্ধতিও ব্যবহৃত হয়।
যাদের চুলের গোড়া স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে গেছে এবং টাক পড়ে গেছে, তাদের জন্য শেষ ভরসা হতে পারে হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট। এই পদ্ধতিতে মাথার পেছনের দিকের স্বাস্থ্যবান চুলের গোড়া তুলে টাকের জায়গায় বসানো হয়। এটি একটি সার্জিকাল প্রক্রিয়া, তাই অভিজ্ঞ ও যোগ্য চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে এবং মানসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানেই করানো উচিত। কম খরচের লোভে অপরিচিত বা অনুমোদনহীন জায়গায় গেলে সংক্রমণ ও ব্যর্থতার ঝুঁকি থাকে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চিকিৎসকের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করে প্রত্যাশা ও সম্ভাব্য ফলাফল সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নেওয়া ভালো।
শেষ কথা
চুল পড়া একটি সাধারণ সমস্যা হলেও এটিকে অবহেলা করা ঠিক নয়, আবার অতিরিক্ত আতঙ্কিত হওয়ারও কিছু নেই। সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, মাথার ত্বকের পরিচ্ছন্নতা এবং চুলের প্রতি মৃদু যত্ন, এই বিষয়গুলো মেনে চললে অনেক ক্ষেত্রেই চুল পড়া কমে আসে এবং নতুন চুল গজানোর পথ তৈরি হয়। তবে সমস্যা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় কিংবা অস্বাভাবিক মনে হয়, তাহলে দেরি না করে একজন যোগ্য চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে বিজ্ঞ সিদ্ধান্ত। মনে রাখবেন, প্রতিটি মানুষের চুলের ধরন ও চুল পড়ার কারণ আলাদা, তাই অন্যের পদ্ধতি অন্ধভাবে অনুসরণ না করে নিজের কারণ জেনে সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নিন। সঠিক তথ্য, ধৈর্য এবং নিয়মিত যত্নের মাধ্যমে আপনিও পেতে পারেন ঘন ও সুস্থ চুল। আর কার্যকর চুল পড়া বন্ধ করার উপায় খুঁজে পেতে সবার আগে প্রয়োজন কারণ শনাক্ত করা এবং বিশেষজ্ঞের পরামর্শকে গুরুত্ব দেওয়া।
অন্য কোথাও কাঙ্ক্ষিত সমাধান না পেয়ে থাকলে এবার ভরসা রাখুন শাফী হেলথ কেয়ার এর ওপর। অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে সঠিক কারণ নির্ণয় করে আমরা দিচ্ছি কার্যকর সেবা। অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করতে কল করুন: +8801324-530175।
বিস্তারিত জানুন: মেয়েদের ও ছেলেদের চুল পড়া বন্ধ ও নতুন চুল গজানোর উপায়
বিস্তারিত জানুন: অল্প বয়সে চুল পড়ার কারণ ও প্রতিকার
সাধারণ জিজ্ঞাসা
চুলের যত্ন নেওয়ার কিছু ঘরোয়া উপায় কী কী?
চুলের যত্নে নারকেল বা আমন্ড তেল হালকা গরম করে সপ্তাহে একবার মাথার ত্বকে আলতো ম্যাসাজ করুন, এতে রক্ত চলাচল বাড়ে এবং চুল নরম থাকে। অ্যালোভেরা জেল, দই ও ডিমের হেয়ার মাস্ক চুলে আর্দ্রতা ও পুষ্টি জোগায়, আর মেথি ভেজানো পানি বা আমলকির গুঁড়ো খুশকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি মৃদু শ্যাম্পু ব্যবহার করুন, চুল ধোয়ার পর নরম তোয়ালে দিয়ে আলতো করে মুছুন এবং সুষম খাবার ও পর্যাপ্ত পানি গ্রহণ করুন। নতুন কোনো উপাদান মাথায় লাগানোর আগে অল্প জায়গায় পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো, যাতে অ্যালার্জির ঝুঁকি এড়ানো যায়।
চুল পড়া বন্ধ এবং নতুন চুল গজানোর জন্য কোন ট্যাবলেট ভালো?
চুল পড়া বন্ধ ও নতুন চুল গজানোর জন্য কোনো একটি ট্যাবলেট সবার জন্য ভালো নয়, কারণ কোন ওষুধ কাজ করবে তা নির্ভর করে চুল পড়ার কারণের ওপর। পরীক্ষায় আয়রন, ভিটামিন ডি, বি১২ বা জিংকের ঘাটতি ধরা পড়লে চিকিৎসক সেই অনুযায়ী সাপ্লিমেন্ট দেন, আর ছেলেদের বংশগত টাকের ক্ষেত্রে ফিনাস্টেরাইড জাতীয় ওষুধ দেওয়া হতে পারে। তবে ফিনাস্টেরাইডের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে এবং এটি সবার জন্য উপযুক্ত নয়, তাই নিজে থেকে কিনে খাওয়া ঠিক নয়। বায়োটিন বা মাল্টিভিটামিন ট্যাবলেট ঘাটতি না থাকলে তেমন উপকার করে না। তাই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার পরই ট্যাবলেট শুরু করুন।
বাংলাদেশের সবচেয়ে ভালো শ্যাম্পু কোনটি?
সেরা শ্যাম্পু বলে কোনো একটি ব্র্যান্ড নেই, কারণ ভালো শ্যাম্পু নির্ভর করে আপনার মাথার ত্বক ও চুলের ধরনের ওপর। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য হালকা ও ক্লিয়ারিং শ্যাম্পু, শুষ্ক বা রং করা চুলের জন্য ময়েশ্চারাইজিং ও সালফেটমুক্ত শ্যাম্পু এবং খুশকি থাকলে কিটোকোনাজল বা জিংক পাইরিথিয়ন যুক্ত অ্যান্টি-ডেনড্রাফ শ্যাম্পু তুলনামূলক ভালো কাজ করে। কেনার সময় উপাদানের তালিকা দেখে নিন এবং কড়া কেমিক্যালযুক্ত বা অতিরিক্ত সুগন্ধিযুক্ত শ্যাম্পু এড়িয়ে চলুন। ব্র্যান্ডের নাম নির্দিষ্ট করে বলতে হলে বাংলাদেশে সহজলভ্য জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের মধ্যে আপনি আপনার চুলের ধরন অনুযায়ী বেছে নিতে পারেন, তবে চুল পড়া বা খুশকি দীর্ঘস্থায়ী হলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শে শ্যাম্পু নির্বাচন করাই নিরাপদ।



