চুল পড়া এখন আর শুধু বয়স্কদের সমস্যা নয়। আজকাল কলেজপড়ুয়া তরুণ থেকে শুরু করে নতুন চাকরিতে ঢোকা তরুণীরাও আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চিরুনিতে জড়িয়ে থাকা চুল দেখে দুশ্চিন্তায় পড়ছেন। আপনিও যদি এমন অবস্থায় থেকে থাকেন, তাহলে জেনে রাখুন, আপনি একা নন। এই ব্লগে আমরা সহজ ভাষায় অল্প বয়সে চুল পড়ার কারণ, এর প্রতিকার এবং আধুনিক চিকিৎসা নিয়ে আলোচনা করবো, যাতে আপনি সঠিক সিদ্ধান্তটি নিতে পারেন। অনেকেই ভাবেন বিষয়টি শুধু সৌন্দর্যের, কিন্তু বাস্তবে অল্প বয়সে চুল পড়ার কারণ অনেক সময় শরীরের ভেতরের কোনো সমস্যার ইঙ্গিত বহন করে।
অল্প বয়সে চুল পড়ার কারণ কি?
প্রথমেই একটি স্বস্তির কথা বলি। প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ১০০টি চুল পড়া সম্পূর্ণ স্বাভাবিক, কারণ পুরোনো চুল ঝরে গিয়ে নতুন চুল গজানোর চক্র সারাক্ষণই চলতে থাকে। কিন্তু যখন দেখবেন বালিশে, বাথরুমের ড্রেনে বা চিরুনিতে আগের চেয়ে অনেক বেশি চুল জমছে, কিংবা মাথার সিঁথি ও সামনের দিক পাতলা হয়ে আসছে, তখন বুঝতে হবে সমস্যাটি স্বাভাবিক সীমা ছাড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে অল্প বয়সে চুল পড়ার কারণ একটি নয়, একাধিক। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে বংশগত প্রবণতা। আপনার বাবা, দাদা বা মামার যদি অল্প বয়সেই টাক পড়ে থাকে, তাহলে আপনার ক্ষেত্রেও সেই সম্ভাবনা বেশি। এরপর আসে হরমোনের তারতম্য। মেয়েদের ক্ষেত্রে পিসিওএস (PCOS), থাইরয়েডের সমস্যা, গর্ভাবস্থা ও সন্তান জন্মের পরবর্তী সময়ে হরমোনের ওঠানামা চুল পড়ার বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
পুষ্টির অভাবও একটি বড় কারণ। আয়রন, ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি১২, জিংক ও প্রোটিনের ঘাটতি হলে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে যায়। আমাদের দেশে অনেক তরুণ-তরুণী নিয়মিত খাবার বাদ দেন, ফাস্টফুডে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন, অথচ বুঝতে পারেন না যে এর প্রভাব সরাসরি চুলে পড়ছে। তাছাড়া মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব, পরীক্ষা বা চাকরির দুশ্চিন্তা থেকেও হঠাৎ করে প্রচুর চুল ঝরে যেতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে বলা হয় টেলোজেন এফ্লুভিয়াম, যা সাধারণত কঠিন সময় পার হওয়ার তিন থেকে ছয় মাস পরে দেখা দেয়।
আরও কিছু কারণ আমাদের চোখ এড়িয়ে যায়। ঘন ঘন কেমিক্যাল যুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার, হেয়ার ডাই, স্ট্রেইটনিং বা কার্লিংয়ের মতো তাপ প্রয়োগ, চুল শক্ত করে বেঁধে রাখা, এমনকি ঢাকার দূষিত বাতাস ও ধুলাবালিও চুলের স্বাস্থ্য নষ্ট করে দেয়। কিছু ওষুধ, দীর্ঘস্থায়ী জ্বর বা ডেঙ্গুর মতো অসুস্থতার পরেও চুল পড়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। সব মিলিয়ে বলা যায়, অল্প বয়সে চুল পড়ার কারণ খুঁজে বের করাই চিকিৎসার প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

অল্প বয়সে ছেলেদের চুল পড়ার কারণ
ছেলেদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রচলিত কারণ হলো অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেসিয়া, যাকে আমরা সাধারণ ভাষায় পুরুষালি টাক বলি। এই অবস্থায় শরীরের ডিএইচটি (DHT) নামের একটি হরমোন চুলের ফলিকলকে ধীরে ধীরে ছোট ও দুর্বল করে দেয়। ফলে চুল প্রথমে সরু ও নরম হয়, তারপর একসময় গজানোই বন্ধ হয়ে যায়। সাধারণত কপালের দুই পাশ থেকে চুল সরে যেতে শুরু করে, আর মাথার তালুর মাঝখানে পাতলা ভাব দেখা দেয়। অনেক ছেলের বিশ বছর বয়সেই এই লক্ষণ শুরু হয়ে যায়।
তবে শুধু জিন বা হরমোনকে দোষ দিলে হবে না। ছেলেদের জীবনযাপনের কিছু অভ্যাসও বড় ভূমিকা রাখে। ধূমপান রক্তসঞ্চালন কমিয়ে চুলের গোড়ায় পুষ্টি পৌঁছাতে বাধা দেয়। রাত জেগে মোবাইল বা গেম খেলা, অনিয়মিত খাওয়া, অতিরিক্ত এনার্জি ড্রিংক এবং জিমে প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট বা স্টেরয়েড জাতীয় জিনিসের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারও চুলের ক্ষতি করে। প্রতিদিন হেলমেট পরে বাইক চালানো, সেই হেলমেটের ভেতরে ঘাম জমে থাকা এবং মাথার ত্বক পরিষ্কার না রাখার ফলে খুশকি ও ফাঙ্গাল ইনফেকশন হয়, যা চুল পড়ার গতি আরও বাড়িয়ে দেয়।
আমার মনে হয় ছেলেরা এই সমস্যা নিয়ে সবচেয়ে বেশি লজ্জা পান এবং বলতে চান না। বন্ধুদের ঠাট্টার ভয়ে, কিংবা “এটা তো বংশের ব্যাপার, কিছু করার নেই” ভেবে অনেকে বছরের পর বছর চুপচাপ থাকেন। অথচ ঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করলে চুল পড়া অনেকাংশেই থামানো সম্ভব। সুতরাং অল্প বয়সে চুল পড়ার কারণ ছেলেদের ক্ষেত্রে যাই হোক, দেরি না করে ব্যবস্থা নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ।
অল্প বয়সে চুল পড়ার কারণ ও প্রতিকার
কারণ জানার পর এবার আসা যাক প্রতিকারে। ভালো খবর হলো, অনেক ক্ষেত্রে সামান্য কিছু অভ্যাস বদলালেই পরিবর্তন দেখা যায়। প্রথমেই খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর দিন। ডিম, মাছ, মুরগির মাংস, ডাল, বাদাম, দুধ ও টক দইয়ের মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খান। পালংশাক, কচু শাক ও লাল শাকে আয়রন পাওয়া যায়, আর রোদে কিছুটা সময় কাটালে ভিটামিন ডি এর ঘাটতি পূরণে সাহায্য হয়। প্রচুর পানি পান করাও জরুরি, কারণ শরীরে পানির অভাব হলে চুল রুক্ষ ও ভঙ্গুর হয়ে যায়।
চুলের যত্নের ক্ষেত্রে মাত্রাতিরিক্ত কিছু করার দরকার নেই। সপ্তাহে তিন-চারবার মৃদু শ্যাম্পু দিয়ে মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখুন। ভেজা চুলে জোরে চিরুনি চালাবেন না, কারণ ভেজা অবস্থায় চুল সবচেয়ে দুর্বল থাকে। ড্রায়ার ও স্ট্রেইটনার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। সপ্তাহে একবার হালকা গরম নারকেল বা অলিভ তেল দিয়ে আলতো করে ম্যাসাজ করলে রক্তসঞ্চালন ভালো হয় এবং মনও শান্ত থাকে। তবে তেল মাথায় বেশিক্ষণ ফেলে রাখবেন না, কারণ তাতে খুশকি বাড়তে পারে।
মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়াকে অবহেলা করবেন না। প্রতি রাতে সাত-আট ঘণ্টা ঘুম, হালকা ব্যায়াম বা হাঁটা, প্রয়োজনে মেডিটেশন বা প্রিয়জনের সঙ্গে মন খুলে কথা বলা, এগুলো স্ট্রেস কমিয়ে চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে। ধূমপান থাকলে ধীরে ধীরে ছাড়ার চেষ্টা করুন। আপনি যদি সত্যিই অল্প বয়সে চুল পড়ার কারণ দূর করতে চান, তাহলে একদিনে সব বদলে ফেলার চাপ নিজের ওপর নেবেন না।
একটা কথা মনে রাখা দরকার। বাজারে “সাত দিনে চুল গজানো” বা “১০০% গ্যারান্টি” বলে যেসব তেল ও ক্রিমের বিজ্ঞাপন দেখা যায়, সেগুলোর বেশিরভাগই বিজ্ঞানসম্মত নয়। চুল গজানো ধীর প্রক্রিয়া, ফল দেখতে সাধারণত তিন থেকে ছয় মাস সময় লাগে। তাই ধৈর্য ধরুন, আর অচেনা পণ্যে টাকা নষ্ট করার আগে একজন যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
অল্প বয়সে চুল পড়ার কারণ ও চিকিৎসা
ঘরোয়া যত্নে যদি উন্নতি না হয়, কিংবা চুল পড়ার পরিমাণ দ্রুত বাড়তে থাকে, তাহলে আর দেরি না করে ত্বক ও চুলের বিশেষজ্ঞ বা ডার্মাটোলজিস্টের কাছে যাওয়া উচিত। চিকিৎসক প্রথমে আপনার ইতিহাস শুনবেন, মাথার ত্বক পরীক্ষা করবেন এবং প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষার পরামর্শ দেবেন। সিবিসি, ফেরিটিন, ভিটামিন ডি, বি১২ ও থাইরয়েড হরমোনের পরীক্ষা থেকে অনেক সময় আসল কারণটি ধরা পড়ে। কারণ নির্ণয় ঠিকভাবে হলে চিকিৎসাও সঠিক পথে এগোয়, তাই অল্প বয়সে চুল পড়ার কারণ নিশ্চিত না হয়ে নিজে নিজে ওষুধ শুরু করা ঠিক নয়।
চিকিৎসার ধরন নির্ভর করে সমস্যার ধরন ও তীব্রতার ওপর। পুষ্টির ঘাটতি থাকলে চিকিৎসকের নির্দেশনায় আয়রন, ভিটামিন ডি বা বায়োটিনের মতো সাপ্লিমেন্ট দেওয়া হয়। পুরুষালি টাকের ক্ষেত্রে মিনক্সিডিল নামের একটি টপিক্যাল সলিউশন বহুল ব্যবহৃত, যা সরাসরি মাথার ত্বকে লাগাতে হয়। কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসক ফিনাস্টেরাইড জাতীয় ওষুধ দিতে পারেন, তবে এটি অবশ্যই বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে খেতে হয়, কারণ এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। নারীদের ক্ষেত্রে হরমোনজনিত সমস্যা থাকলে সেই অনুযায়ী আলাদা চিকিৎসা করা হয়।
আধুনিক চিকিৎসায় পিআরপি (PRP) থেরাপি এখন বেশ জনপ্রিয়। এতে রোগীর নিজের রক্ত থেকে প্লাটিলেট সমৃদ্ধ প্লাজমা আলাদা করে মাথার ত্বকে প্রয়োগ করা হয়, যা চুলের ফলিকলকে সচল হতে সাহায্য করে। এছাড়া লো-লেভেল লেজার থেরাপি, মেসোথেরাপি ইত্যাদিও কিছু ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। চুল পড়ার পর যদি স্থায়ীভাবে টাক পড়ে যায় এবং ফলিকল আর সচল না থাকে, তখন হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট একটি কার্যকর সমাধান। তবে এটি ব্যয়বহুল এবং অভিজ্ঞ ডাক্তারের হাতে করানো জরুরি, তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একাধিক বিশেষজ্ঞের মত নিয়ে নেওয়া ভালো।
এখানে একটি কথা বিশেষভাবে বলা দরকার। প্রতিটি মানুষের শরীর আলাদা, তাই একজনের জন্য যে চিকিৎসা কাজ করেছে, তা আপনার জন্যও কাজ করবে এমন নিশ্চয়তা নেই। বন্ধু বা সোশ্যাল মিডিয়ার পরামর্শে ওষুধ খাওয়া শুরু করলে হিতে বিপরীত হতে পারে। সঠিক পরীক্ষা ও পরামর্শের ভিত্তিতে এগোলে খরচও কম হয়, ফলও ভালো আসে।
শেষ কথা
চুল পড়া নিয়ে হতাশ বা লজ্জিত হওয়ার কিছু নেই। এটি একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা, যার সমাধান সম্ভব, শর্ত হলো সময়মতো সচেতন হওয়া। অল্প বয়সে চুল পড়ার কারণ বংশগত, হরমোনজনিত, পুষ্টিগত বা মানসিক চাপ, যা-ই হোক না কেন, কারণটি চিনতে পারলেই আপনি অর্ধেক পথ পেরিয়ে গেলেন। সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম, চুলের সঠিক যত্ন এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ, এই চারটি বিষয় মেনে চললে আপনার চুল আবার সুস্থ ও ঘন হয়ে ওঠার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।
আজ থেকেই নিজের চুলের দিকে একটু বেশি মনোযোগ দিন। আর যদি মনে হয় সমস্যাটি আপনার নিজের চেষ্টায় সামলানো যাচ্ছে না, তাহলে দেরি না করে একজন যোগ্য চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন। মনে রাখবেন, অল্প বয়সে চুল পড়ার কারণ বুঝে সময়মতো পদক্ষেপ নিলে আপনার আত্মবিশ্বাস আবার ফিরে আসবেই।
এরপরও সমাধান না পেলে দেরি না করে যোগাযোগ করুন শাফী হেলথ কেয়ারে, আমরা আছি আপনার পাশে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে কল করুন: +8801324-530175
বিস্তারিত জানুন: মেয়েদের ও ছেলেদের চুল পড়া বন্ধ ও নতুন চুল গজানোর উপায়
সাধারণ জিজ্ঞাসা
রুক্ষ চুলের জন্য কোন শ্যাম্পু ভালো?
রুক্ষ চুলের জন্য সালফেট-ফ্রি ও ময়েশ্চারাইজিং শ্যাম্পু সবচেয়ে ভালো, কারণ সালফেট স্ক্যাল্পের প্রাকৃতিক তেল আরও কমিয়ে দেয়। শ্যাম্পুর লেবেলে আর্গান অয়েল, শিয়া বাটার, নারিকেল তেল, গ্লিসারিন বা অ্যালোভেরা আছে কিনা দেখে নিন, এগুলো চুলে আর্দ্রতা ধরে রাখে। বাজারে Dove Intense Repair, TRESemmé Keratin Smooth, L'Oréal Total Repair 5 বা Pantene Pro-V Repair & Protect এই ধরনের চুলের জন্য জনপ্রিয়। শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনার দিতে ভুলবেন না, আর সপ্তাহে একবার হেয়ার মাস্ক বা গরম তেল ম্যাসাজ করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
শ্যাম্পুর সাথে কি মেশালে চুল ঘন হয়?
শ্যাম্পুর সাথে কিছু মিশিয়ে চুল ঘন হয়, এমন কোনো প্রমাণিত পদ্ধতি নেই, আর ঘরে মেশানো জিনিস শ্যাম্পুর কার্যকারিতা নষ্ট করে স্ক্যাল্পে জ্বালাও ধরাতে পারে। তাই বরং শ্যাম্পু আলাদা রেখে সপ্তাহে ২-৩ বার পেঁয়াজের রস, নারিকেল তেল বা ক্যাস্টর অয়েল দিয়ে স্ক্যাল্প ম্যাসাজ করুন, এতে রক্ত চলাচল বাড়ে এবং চুল পড়া কিছুটা কমতে পারে। চুল ঘন করতে সবচেয়ে বেশি কাজ করে প্রোটিন, আয়রন, ভিটামিন ডি ও বায়োটিন সমৃদ্ধ খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম ও পানি। আর হঠাৎ করে অনেক বেশি চুল পড়লে বা চুল পাতলা হয়ে গেলে একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞকে দেখানো ভালো, কারণ এর পেছনে হরমোন বা পুষ্টির ঘাটতিও থাকতে পারে।
কি পাতা দিলে চুল পড়া বন্ধ হয়?
কোনো একটা পাতায় চুল পড়া পুরোপুরি বন্ধ হয়, এমন প্রমাণ নেই, তবে কিছু পাতা স্ক্যাল্পের যত্নে সাহায্য করে। কারি পাতা নারিকেল তেলে গরম করে সেই তেল স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করা যায়, আর নিম পাতা বেটে বা ফুটিয়ে সেই পানি দিয়ে মাথা ধুলে খুশকি ও চুলকানি কমতে পারে। এছাড়া মেহেদি পাতা ও অ্যালোভেরা জেল স্ক্যাল্প ঠান্ডা রাখে ও চুলে আর্দ্রতা দেয়। তবে সপ্তাহে ১-২ বারের বেশি ব্যবহার না করাই ভালো, আর চুল পড়া অনেক দিন ধরে বেশি হলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞকে দেখানো উচিত।
এক বছরে চুল কতটা লম্বা হয়?
গড়ে চুল মাসে প্রায় ১ থেকে ১.৫ সেন্টিমিটার (আধা ইঞ্চির মতো) লম্বা হয়, তাই এক বছরে ১২ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার, অর্থাৎ প্রায় ৫-৬ ইঞ্চি বাড়ে। বয়স, জিন, হরমোন, খাবার ও স্ক্যাল্পের স্বাস্থ্যের ওপর এই গতি কিছুটা কম-বেশি হতে পারে। চুলের আগা ফেটে গেলে বা ভেঙে গেলে লম্বা হওয়া কম মনে হয়, তাই নিয়মিত ২-৩ মাস পর আগা ট্রিম করা ভালো। ভালো প্রোটিন ও আয়রনযুক্ত খাবার এবং কম তাপে স্টাইলিং করলে চুলের বৃদ্ধি স্বাভাবিক থাকে।



